থানার ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে কয়েকটি গরুর। সেখানেই গরুগুলোকে লালন-পালন করা হচ্ছে। এমনি চিত্র নওগাঁর রাণীনগর থানায়। সম্প্রতি একটি গরু থেকে এঁড়ে বাছুরের জন্ম হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডলের নিজ খরচে থানায় গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে এমন নানাবিধ মানবিক কাজের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
গত এক মাস আগে রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত এক গরু চোরের বাড়ি থেকে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার করে। গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে না পাওয়ায় চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলো রাণীনগর থানায় লালন-পালন করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত জুলাই মাসে উপজেলার গোনা গ্রামের এক অসহায় কৃষকের বাড়ি থেকে তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গরুর মালিক থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার ও চোরদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। গোয়েন্দা তথ্য, ডাটা প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে প্রথমে একজন কুখ্যাত গরু ডাকাতকে শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে নাটোরের নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর নওগাঁ জেলার আসলামকে র্যাবের সহযোগীতায় গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আসলামের দেওয়া তথ্যমতে- ১৫ জুলাই ভোররাতে নাটোরের সিংড়ার চৌগ্রামের অসিতের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত গরু চোর অসিতকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অসিতের গোয়ালঘর থেকে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গরুগুলোর মধ্যে একটি গরু ছিল সন্তান সম্ভবা। এরপর উদ্ধার হওয়া ওই গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে গরুগুলোকে থানা প্রাঙ্গনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর চুক্তিভিত্তিক একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর লালন-পালন করা হচ্ছে। সম্প্রতি একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এখন পর্যন্ত গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেজন্য থানায় গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। নিয়মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




