কুমিল্লায় ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে মিলছে কাঙ্ক্ষিত সুফল, তবে সামনে প্রয়োজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থায়ী পুনর্বাসন

​কুমিল্লা নগরীতে সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চালানো আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। জিলা স্কুল থেকে রাজগঞ্জ মোড় পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে অর্ধশতাধিক অস্থায়ী ভ্যান ও বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান অপসারণ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের পর নগরবাসীর সুবিধা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট মহলে নানামুখী আলোচনা ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন ফলপ্রসূ পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসন হয়ে নগরীতে দারুণ সুফল বয়ে এনেছে, অন্যদিকে তেমনি সামনে দেখা দিয়েছে পুনর্বাসনের জোরালো দাবি।

​ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট নিরসন:

এই অভিযানের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হওয়া। জিলা স্কুল থেকে রাজগঞ্জ মোড়ের মতো ব্যস্ততম এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের হাঁটার পথ থাকত না। সিটি করপোরেশনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজট সফলভাবে নিরসন হয়েছে; পথচারীরা এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন এবং ওই এলাকার যানজট পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নগরীর শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

​কর্মসংস্থান সংকট ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি:

অন্যদিকে, এই অভিযানের কঠোর ও আকস্মিক রূপটি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ভুক্তভোগীদের প্রধান অভিযোগ হলো— প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই ভ্রাম্যমাণ দোকান ও ভ্যান অপসারণ করায় তারা মালামাল গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পাননি। অনেক গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষ ঋণ বা ধারদেনা করে এই ব্যবসাগুলো দাঁড় করিয়েছিলেন। চোখের সামনে জীবিকা অর্জনের একমাত্র মাধ্যমটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আজ দিশেহারা ও সর্বস্বান্ত।

​পুনর্বাসন ও বিকল্প ব্যবস্থার জোরালো দাবি:

উচ্ছেদ যেমন একটি প্রয়োজনীয় কাজ, ঠিক তেমনি সামনে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করাও সমানভাবে জরুরি—এ কথাটিই এখন জোরালোভাবে বলছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি এসব ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বা বিকল্প কোনো মার্কেটে স্থানান্তরের স্থায়ী ব্যবস্থা করা উচিত। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত রাখার এই অগ্রযাত্রার পাশাপাশি খেটে খাওয়া এসব মানুষের রুটি-রুজির সুরক্ষায় দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

​

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পিতা নজরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের কবর জিয়ারত করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর গ্রামে গত ২০ অক্টোবর