
মাদকের সর্বনাশা ছোবলে আজ ধূলিসাৎ হতে বসেছে আমাদের আগামী প্রজন্ম। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় তারুণ্য, ভেঙে চুরমার হচ্ছে বহু হাসিখুশি পরিবার। সমাজ থেকে এই ক্যান্সারের শেকড় চিরতরে উপড়ে ফেলতে এবং মানবিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে কুমিল্লায় একযোগে নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কড়া নির্দেশনা এবং পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে গত কাল রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ৪৩টি পৃথক স্থানে একযোগে হানা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাদক কারবারি ও সরবরাহকারীদের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে বাঁচাতে পরিচালিত এই নীরব লড়াইয়ে উদ্ধার করা হয়েছে সর্বমোট ১০,৪৫৮ পিস ইয়াবা এবং ২৫ কেজি সর্বনাশা গাঁজা। এই বিশাল মাদক চালানসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে।
মাদকের অন্ধত্বে হারিয়ে যাওয়া এই মানুষগুলোর অপরাধের মাত্রা ও নেপথ্যের করুণ পরিণতি বিবেচনা করে, নিয়মিত মামলার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট ও বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trial) মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিপথগামী এসব মানুষকে মানবিক বোধে ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনের আকুতিই যেন ফুটে উঠেছে এই কঠোর পদক্ষেপে।
মাদক কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি মানুষের মানবতা, বিবেক ও সুস্থ জীবনবোধ কেড়ে নেয়। এই ধ্বংসাত্মক নেশা থেকে আমাদের তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এবং প্রতিটি পরিবারের চোখের জল মুছাতে জেলা পুলিশের এই মানবিক ও কঠোর অবস্থান কেবল একটি রুটিন অভিযান নয়—এটি সমাজ বাঁচানোর এক ঐতিহাসিক লড়াই। কুমিল্লার মাটি থেকে মাদকের চিরতরে উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের এই অদম্য ও সাহসী অভিযান অব্যাহত থাকবে।





