
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খালকুলা গ্রামের আমজেদ এর বাড়ি হইতে মোহন সেখ এর বাড়ি অন্য দিকে কল্যান দিঘি থেকে তোফাজ্জেল মন্ডল এর বাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরেও টেকসই সংস্কারের মুখ দেখেনি। ফলে বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খালকুলা ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে প্রথম দেখায় এটি ধান রোপণের জন্য প্রস্তুত করা কোনো জমি বলে মনে হতে পারে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদার সাগরে পরিণত হয়। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, আবার কোথাও পা ফেললেই গভীর কাদায় আটকে যায়। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে খালকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন এই কাদাময় পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাদের। অনেক সময় পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও স্কুলের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি গ্রামের রাস্তা নয়; বরং খালকুলা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কৃষকরাও এই সড়ক ব্যবহার করে ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাড়িতে আনা-নেওয়া করেন এবং বহরপুর রামদিয়া সোনাপুর হাটে বিক্রির জন্য পরিবহন করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে সড়ক দুইটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে এক থেকে দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার মেইন সড়কে যেতে হয়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় দিয়ে হেটে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই, একজন কৃষক মাথায় পাট বহন করে কাদার মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এমন দৃশ্যই এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশপাশের অধিকাংশ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
তারা দ্রুত সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর আশা, সড়কটির উন্নয়ন হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে পুরো এলাকার মানুষ।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
