
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নে সাংগঠনিক সভা করেছে বিএনপি। সভাকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী একাধিক নেতার তৎপরতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদেও দলীয় সমর্থন পেতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজনগর নতুন বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ২ নম্বর পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুল আলম। সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল মোত্তাকিন বাদশাহ এবং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর আলম।
সভায় চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় অতীতের কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুল আলম, উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন খন্দকার ফরহাদ এবং বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ লিটন, বিল্লাল মিয়া, শামীম আজাদ, তাজ উদ্দিন ও ইসবর আলী ভূঁইয়া।
চেয়ারম্যান পদে একাধিক নেতার আগ্রহের কারণে দলীয় সমর্থন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। তবে সভায় প্রার্থী বাছাই কিংবা কাউকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য পদে দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীদের তৎপরতা রয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে হাসমত আলী এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম একক সমর্থনপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন বলে সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাকি ছয়টি ওয়ার্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা দলীয় সমর্থন পেতে আগ্রহী।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী আব্দুল মন্নান বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে, তবে নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রধান বক্তা আলী আকবর বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আরও একটি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হবে। তদন্ত ও তৃণমূলের মতামত যাচাইয়ের মাধ্যমে জনবান্ধব, জনপ্রিয় এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ঘোষিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নজির আহমেদ, শুকুর আলী ও কাইয়ুম মাস্টার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন জসু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল আহমদ, বিএনপি নেতা শিহাব আহমদ, নানু মেম্বার, আব্দুল খালিক, হারুনুর রশিদ, আইন উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবুল বাশার বাদশা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বজলু মিয়া, আসাদুল হক, সোলেমান তালুকদার ও আলী আকবর মেম্বারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া যুবদল নেতা খোকন রঞ্জন দে, হজরত আলী, মাসুক মিয়া ও মুজাফ্ফর আলী, মানিক মিয়া, ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুকনুজ্জামান শুভ, সাবেক ছাত্রদল নেতা আইনুল হক, এম. সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আল-আমিন সারোয়ার এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি আলেক তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।
সাংগঠনিক সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় সমর্থন পাবেন, তা নির্ধারিত হয়নি। ফলে পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য পদে দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীদের পরবর্তী সাংগঠনিক তৎপরতার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

