বৃহস্পতিবার,১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯৭১ সালের মার্চের দশম দিন আজ”ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ

১৯৭১ সালের মার্চের দশম দিন আজ। একাত্তরের আরো একটি উত্তাল দিন। বিক্ষুব্ধ বাংলায় বিদ্রোহ-বিক্ষোভের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। চলছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকা অসহযোগ আন্দোলন। পাশাপাশি ছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সারা দেশে সরকারি ও আধাসরকারি অফিসের কর্মচারীরা দশম দিনের মতো কাজে যোগদানে বিরত থাকেন। জরুরি কাজের বিবেচনায় বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও ব্যবসাকেন্দ্র খোলা থাকে। ঘরে ঘরে উড়ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত নতুন পতাকা। সরকারি ও বেসরকারি ভবন, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা ওড়ে। এমনকি প্রধান বিচারপতির বাসভবন এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনসেও এদিন কালো পতাকা ওড়ে।
স্বাধীনতার মূলমন্ত্র বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের বক্তৃতা বারবার প্রচার ও সম্প্রচার হতে থাকে, যা ৭ কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধই করেনি, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শক্তি জুগিয়েছে একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা মার্চে।
এদিন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো বাতিল এবং বেসামরিক পোশাকে হাজার হাজার সৈন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় আনা শুরু করে। একাত্তরের এই দিন সকালে বঙ্গবন্ধু তার বাসভবনে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বঙ্গবন্ধু এ সময় তাদের বলেন, ৭কোটি বাঙালি আজ নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। যে কোনো মূল্যে তারা এই অধিকার আদায়ে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাঙালিরা অনেক রক্ত দিয়েছে। এবার আমরা এই রক্ত দেওয়ার পালা শেষ করতে চাই।
বিকালে ওয়ালী ন্যাপের উদ্যোগে শোষণমুক্ত স্বাধীন বাংলার দাবিতে ঢাকা নিউ মার্কেট এলাকায় পথসভা হয়। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। লেখক-শিল্পী মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে লেখক ও শিল্পীরা ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাঙালি ছাত্ররা জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করে মহাসচিব উ-থান্টের কাছে স্মারকলিপি দেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বিবৃতিতে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি পাকিস্তানি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমি যে নির্দেশ দিয়েছি, সচিবালয়সহ সরকারি ও আধাসরকারি অফিস-আদালত, রেলওয়ে ও বন্দরগুলোতে তা পালিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন চক্র প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত।’
এদিন জহুর আহমেদ চৌধুরী, এম আর সিদ্দিকী, এম এ হান্নান, এম এ মান্নান, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মৌলভি সৈয়দ আহমেদ ও এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন