অনিয়মের সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিককে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার হুমকি

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা ও মাঠপর্যায়ে সেবার ঘাটতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি কালকিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবার ঘাটতি, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর একুশে টিভি ও দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিনিধি এবং কালকিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রকিবুজ্জামানের সঙ্গে ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমানের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

সাংবাদিক রকিবুজ্জামান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন,”সংবাদ পক্ষে গেলে প্রশংসা আর বিপক্ষে গেলে কষ্ট পাওয়ার মানসিকতা পরিহার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, তাঁকে টাকা দিয়ে কেনা কিংবা ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। জনস্বার্থে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন বলেও নিজের অবস্থান জানান তিনি।”

সেই পোস্টে কালকিনি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান এক মন্তব্যে সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে লেখেন,  “সামনে পাইলে দুলাভাই বুঝামো নে।” একই মন্তব্যে তিনি আরও লেখেন, “সরকারি চাকরি করে বলে,না হয় কানের….. দিতাম।” পাশাপাশি কালকিনিতে কাউকে চাঁদা দিয়ে চাকরি করতে আসেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি একজন কর্মকর্তার এমন মন্তব্যকে সাংবাদিকের প্রতি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন অনেকে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের পর একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ উপজেলা জুড়ে সমালোচনার তৈরি হয়েছে।

এদিকে সাংবাদিক রকিবুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিকদের দায়িত্ব জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য তুলে ধরা এবং অনিয়মের অভিযোগ জনসম্মুক্ষে আনা। কোনো সংবাদে ভুল বা অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবাদ জানাতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরুপ। আমি এ বিষয়টি প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েছি। যদি তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেন,তবে আমি আইনের আশ্রয় নেব।”

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এমন ঘটনায় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন ও বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন অভিযান

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে, জমে