
কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু এবং চকরিয়াসহ আশপাশের আট উপজেলার যাত্রীদের জন্য আসন বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধান ও রেলসেবায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে চকরিয়া রেলস্টেশন এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ, রামপুর নুরুল আমিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, চকরিয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় তাঁদের রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, লামা ও আলীকদমসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে রেলসেবা পেতে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। চকরিয়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের নির্ধারিত স্টপেজ চালু করা হলে এসব এলাকার যাত্রীদের সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় যাত্রীদের জন্য আসন বরাদ্দ থাকলে রেলভ্রমণ আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন চকরিয়া স্টেশনে না থামায় আশপাশের আট উপজেলার অসংখ্য মানুষ কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত চকরিয়া স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও বড় পরিসরে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনকারীরা সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, চকরিয়া রেলস্টেশনকে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির আওতায় আনা হলে বৃহত্তর এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এদিকে, মানববন্ধনের খবর পেয়ে সকালে রেলওয়ে পুলিশের কক্সবাজার জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চকরিয়া রেলস্টেশনে পৌঁছায়।
এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের কর্মসূচির প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তবে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে এবং রেলওয়ের সরকারি সম্পদের কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।





