রাজবাড়ীতে জ্বালানি সংকটের কারণে কর্মস্থলে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মোটর সাইকেল চালকরা। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ থাকলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ায় চালকদের দৈনন্দিন আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে।
চালকদের অভিযোগ, আগে প্রতিদিন তারা সময় মতো যার য়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মরত চাকরিতে যেতে পারতেন। বর্তমানে সময়ে ২০০/ ৩০০ শত টাকার তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে দিনের বড় অংশ লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হচ্ছে।
লাইনে দাড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকরা বলেন, তেল পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেই অর্ধেক দিন শেষ হয়ে যায়।
তবে স্থানীয় চালকদের চেয়ে বাইরের অপরিচিত চালকদের ভিড় বেশি। তারা লাইনে এসে দাঁড়ায়, ফলে স্থানীয়রা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।
বেশ কয়েকজন চালক বলেন,ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু কখন তেল পাবো তা নিশ্চিত না।
আবার অনেকই তেল পাওয়ার জন্য তেল আসার আগে রাতের বেলায় ও গাড়ী রেখে চলে যায়।
অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকেও ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও নষ্ট হচ্ছে,ঠিক সময় মতো কাজ কর্মে যেতে পারছে না কর্মজীবী চালকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজবাড়ী শহরের ফিলিং স্টেশনসহ উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি গড়ে উঠেছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে লাইনের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন তেল সরবরাহ করা হলেও চালকরা চাহিদা মতো তেল না পাওয়ার কারণে সমস্যায় পড়ছেন।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, “আমরা নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে অনেক চালক নিয়ম না মেনে ভিড় করছেন, এতে লাইনের শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। সবাই ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে তেল নিলে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়।
উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে এবং অনিয়ম রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে।
তবুও চালকদের ভোগান্তি পুরোপুরি কমেনি। স্থানীয়রা মনে করছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় চালকদের অগ্রাধিকার এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি উন্নতি পাবে। মোটরসাইকেল চালকরা দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।




