মঙ্গলবার,২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অবহেলায় পড়ে আছে তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেল খনি: স্বপ্ন আর সম্ভাবনার কী হবে?

​পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় তেল খনিটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ১৯৮৮-৮৯ সালে তেল অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলেও আজ অবধি সেখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
​বর্তমান চিত্র
​সরেজমিনে দেখা যায়, খনি এলাকার যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। যেখানে এই খনিকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মোড় ঘুরে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ কেবল নিস্তব্ধতা আর অযত্নের ছাপ। স্থানীয়দের মনে এক সময় যে আশার আলো জেগেছিল, দীর্ঘ প্রতীক্ষায় তা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।
​কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
​অর্থনৈতিক বিপ্লব: এখান থেকে সফলভাবে তেল উত্তোলন সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।
​কর্মসংস্থান: এই প্রকল্প চালু হলে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
​উন্নয়ন: খনিকে কেন্দ্র করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
​জনসাধারণের প্রত্যাশা
​যদিও এখন পর্যন্ত এই খনি পুনরায় চালুর দাবিতে বড় ধরনের কোনো মানববন্ধন বা কর্মসূচি পালিত হয়নি, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও দাবি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এই খনিটি নিয়ে নতুন করে সমীক্ষা বা উত্তোলনের পরিকল্পনা না করে, তবে মূল্যবান এই জাতীয় সম্পদ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
​এলাকাবাসীর দাবি, অতি দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে শালবাহান তেল খনির বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হোক এবং জাতীয় স্বার্থে এটি পুনরায় সচল করার পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
📌 স্বপ্ন যখন অবহেলায়: শালবাহান তেল খনি কি শুধুই স্মৃতি?
​তেঁতুলিয়ার শালবাহানে অবস্থিত এই তেল খনিটি আমাদের পঞ্চগড়ের এক বিশাল সম্পদ হতে পারতো। ১৯৮৮ সালে স্থাপিত এই প্রকল্প আজ পরিত্যক্ত। কোনো মানববন্ধন বা আন্দোলন হয়নি ঠিকই, কিন্তু আমাদের নীরবতা কি এই সম্পদকে হারিয়ে যেতে দেবে?
​দেশের জ্বালানি সংকট মেটাতে এবং স্থানীয় বেকারত্ব দূর করতে শালবাহান তেল খনি সচল করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—আমাদের এই সম্পদকে রক্ষা করুন!

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন