গত ০২ দিনের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে পূর্বধলায় ঘরবাড়ি-ফসলের ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া প্রায় ২৫ মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে উপজেলার সদর, আগিয়া, হোগলা, ঘাগড়া, বিশকাকুনী, ধলামূলগাঁও ও নারান্দিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ নেমে আসা এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে আবারো পুনরায় ঝড়ো হওয়া সহ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির সঙ্গে দমকা ঝড় থাকায় শিলার আঘাত ছিল অত্যন্ত তীব্র। এতে টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে, অনেক স্থানে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে এবং ফসলি জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতের বেলা দুর্যোগ হওয়ায় অনেক পরিবার আতঙ্কে ঘরের ভেতরে অবস্থান নেয়।

 

ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার বলেন, “হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। টিনের চালের ওপর শিলা পড়ার শব্দে মনে হচ্ছিল পাথর ছুড়ে মারা হচ্ছে। দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখা যাচ্ছিল না, ঝড়ের চাপ এত বেশি ছিল।”

একই ইউনিয়নের কৃষক মো. আইনউদ্দিন খাঁ জানান, “শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে আঘাত লেগেছে। এখনো ধানের তোড় পুরোপুরি না আসায় বড় ক্ষতি হয়নি, তবে অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

 

আগিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোশাররফ তালুকদার বলেন, “এমন শিলাবৃষ্টি আগে খুব কম দেখেছি। টিনের চালের ওপর বিকট শব্দে বোঝা গেছে শিলার আঘাত কতটা ছিল। দিনের আলো হলে জমিতে গিয়ে বোরো ধানের প্রকৃত ক্ষতি বোঝা যাবে।”

পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “পূর্বধলায় নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি হয়েছে। রাতের বেলা হওয়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বোরো ধান, শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে জারিয়া লোকাল ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ঝড়ের কারণে উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বারধার (বারহা) এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে, ফলে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল আটকে থাকে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ সরিয়ে ফেললে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন