চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেটের একটি দোকানে কসমেটিকস কোম্পানির সেলস গার্ল হিসেবে কাজ করতেন। ছোট্ট, নিয়মমাফিক একটা জীবন।
ঈদগা রোডের একটি বাসায় একাই থাকতেন তিনি। সঙ্গী ছিল শুধু দু’টি পোষা বিড়াল। নীরব, নির্জন-তবু নিজের মতো করে গুছিয়ে নেওয়া দিনযাপন।
কয়েকদিন আগে, প্রায় ১০-১২ দিন হবে, শেখপাড়ায় নতুন বাসায় উঠেছিলেন ভাড়াটিয়া হিসেবে। সহকর্মীদের ভাষায় অবিবাহিত, কর্মজীবী, নিজের মতো থাকা একজন মানুষ।
আজ বুধবার সকাল থেকে তিনি কর্মস্থলে আসেননি। ফোন বন্ধ। উদ্বেগ ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তায় রূপ নেয়। খোঁজ শুরু হয়।
নতুন বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অস্বস্তি বাড়তে থাকে। আশপাশের মানুষ জড়ো হয়। ফিসফাস, কৌতূহল, অজানা আশঙ্কা।
বেলা তিনটার কিছু আগে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকা হয়।
ভেতরে নিথর পড়ে আছেন গোপালগঞ্জের অহনা।
কোন অভিমান, কোন অন্ধকার তাকে এমন সিদ্ধান্তে নিয়ে গেল-কেউ জানে না। রেখে গেছেন একটি চিরকুট। সেটি এখন পুলিশের হাতে।
ঘরের ভেতর দু’টি বিড়াল অস্থির হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বাইরে অচেনা মানুষের দীর্ঘশ্বাস, হা-হুতাশ।



