বিদ্যুতের এই সংকট শুধু পড়াশোনাতেই নয়, পুরো জনজীবনকেই বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ে অস্থির হয়ে পড়েছে জনজীবন, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা—যাদের সামনে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
রাত গভীর হলে, যখন বই-খাতা নিয়ে বসার কথা—ঠিক তখনই নিভে যায় আলো। বিদ্যুৎহীন ঘরে ঘাম ঝরিয়ে, মোমবাতি ক্ষীণ আলোয় ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরম, অন্ধকার আর অনিশ্চয়তায় তাদের মনোযোগ ভেঙে পড়ছে বারবার।
একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে জানায়, “এভাবে চলতে থাকলে ভালো ফল করা অসম্ভব হয়ে যাবে। পড়তে বসলে বিদ্যুৎ থাকে না, আর বিদ্যুৎ এলে সময় থাকে না।”
শুধু শিক্ষার্থী নয়, পুরো চরফ্যাশনের চিত্র এখন একই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। ফ্রিজনির্ভর পণ্য নষ্ট হচ্ছে, অনলাইন কাজ বন্ধ, ছোট ব্যবসায়ীরা গুনছেন লোকসান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই দাবি—“অন্তত পরীক্ষার সময়টুকুতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই।”
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জ্বালানি সংকটের কথা বললেও, দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই অন্ধকারে কি হারিয়ে যাবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন? নাকি জ্বলবে আলোর আশার প্রদীপ?




