চলে গেলেন না ফেরার দেশে মতলবের কৃতি সন্তান সাবেক বিমান বাহিনীর প্রধান রফিকুল ইসলাম

 চলে গেলেন না ফেরার দেশে সাবেক বিমান বাহিনীর প্রধান  চাঁদপুর এর কৃতি সন্তান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এনডিইউ, পিএসসি হলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন প্রাক্তন প্রধান এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য।
তিনি ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষাজীবন
জন্ম: তিনি ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাইশপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন
শিক্ষা:
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী সারগোদা কলেজ (PAF Public School Sargodha) থেকে তার প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সম্পন্ন করেন । এই স্বনামধন্য সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নকালীন সময়েই তিনি বিমান বাহিনীর প্রাথমিক শিক্ষা ও সামরিক জীবনের প্রয়োজনীয় মৌলিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
সামরিক বাহিনীতে তার উচ্চতর পেশাগত শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
উচ্চতর সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
কমিশন লাভ: সারগোদা কলেজের শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমিতে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালে ফাইটার পাইলট হিসেবে কমিশন লাভ করেন।
পিএসসি (psc): তিনি সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘স্টাফ কোর্স’ সফলভাবে সম্পন্ন করে বিমান বাহিনীর স্টাফ কলেজ থেকে ‘psc’ (Passed Staff College) ডিগ্রি অর্জন করেন ।
এনডিইউ (ndu): তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় (National Defence University) থেকে উচ্চতর স্ট্র্যাটেজিক ও ডিফেন্স স্টাডিজ কোর্স সম্পন্ন করে ‘ndu’ ডিগ্রি লাভ করেন
 বিমান বাহিনী প্রধান: তিনি ৪ জুন ২০০১ থেকে ৮ এপ্রিল ২০০২ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান (COAS) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন
পদমর্যাদা:
তিনি বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ সক্রিয় পদমর্যাদাগুলোর একটি, এয়ার ভাইস মার্শাল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন
উত্তরসূরি:
বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে তার অবসর গ্রহণের পর তার কোর্সমেট এয়ার ভাইস মার্শাল ফখরুল আজম স্থলাভিষিক্ত হন
রাজনৈতিক জীবনসংসদ সদস্য: সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন।
নির্বাচন: ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর – মতলব দক্ষিণ) আসন থেকে সংসদ সদস্য (MP) নির্বাচিত হন
তার উদ্যোগে ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচালিত প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
খোরশেদ আরা প্রাথমিক বিদ্যালয়: তিনি তার নিজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন ।
এটি বর্তমানে সরকারি অনুদান প্রাপ্ত একটি অন্যতম প্রাথমিক বিদ্যাপীঠ ।
মুন্সীহাট কলেজ:
চাঁদপুর অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রসারে এই কলেজটি নির্মাণ ও পরিচালনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি এই মুন্সীহাট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর গভর্নিং বডির বা পরিচালনা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন
 মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ট্রাস্ট (Mohammad Rafiqul Islam Trust): তার নাম ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই ট্রাস্টটি গঠিত হয় । এই ট্রাস্টের অধীনে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (যেমন: ঢাকার ডেমরা/মাতুয়াইলের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ’) পরিচালিত হয়ে থাকে ।
সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগ্রোথ সেন্টার ও সামাজিক ক্লাব: মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে তিনি সরকারি সহায়তায় গ্রামীণ বাজার বা গ্রোথ সেন্টার এবং পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন।
মসজিদ ও মাদ্রাসা সংস্কার: এলাকার ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি স্থানীয় মসজিদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণ এবং ফান্ডের ব্যবস্থা করতে তিনি প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অবদান রাখেন।
সর্বশেষ  তিনি ঢাকার সন্মিলিত সামরিক হাসপাতাল সিএম এইচ হাসপাতালে লাইপ সাপোর্টে থাকাকালীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন