কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামে। নিহত ফাতেমা ওই গ্রামের জাবেদ হোসেন (৩৫) নামের এক ড্রাইভারের স্ত্রী।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী জাবেদ হোসেন পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে ফাতেমা অভিযোগ করেন, স্বামী তাকে গালিগালাজ করে একপর্যায়ে গলা টিপে ধরে এবং পরে খাটের নিচে রাখা তেলের বোতল থেকে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে আলকরা ইউনিয়নের বুরনকরা গ্রামের আবুল হাসেম (টুকু মিয়া)-এর মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে গুনবতীর চাঁপাচৌ গ্রামের অলি আহমদের ছেলে জাবেদ হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের জেরে ফাতেমা দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার চেষ্টা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানাকে অবহিত করে। পরে পুলিশ মরদেহ হেফাজতে নেয় এবং চৌদ্দগ্রাম থানাকে বিষয়টি জানায়।
ওসি আরিফ হোছাইন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘরে মজুদ রাখা জ্বালানি তেল থেকেই অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে। পরিবার মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন জানান, জাবেদ হোসেন ঘরে জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখতেন এবং সেই তেল থেকেই এ ঘটনা ঘটে। তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।
নিহতের চাচাতো ভাই আসিফ অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ফাতেমাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।




