মঙ্গলবার,১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে আলোচনায় শীর্ষে জবি ছাত্রনেতা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রুমি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)। ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং শুরু থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলায় একাধিকবার গ্রেফতার, বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হওয়া এবং কারাভোগের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
রুমির ভাষ্য অনুযায়ী, শৈশবের উচ্ছ্বাস, কৈশোরের আবেগ এবং যৌবনের স্বপ্ন—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তার ছাত্ররাজনীতির পথচলা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমার আবেগ ও ভালোবাসার সংগঠন। এই সংগঠনের রাজনীতি করতে পারাটাই আমার জন্য গর্বের।”
স্কুল জীবন থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কলেজে পড়ার সময় বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শুরু হয়।রাজনীতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে থাকেন তিনি।
সংগঠনের ভেতরে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) ও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনার মধ্যে তিনি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে ৬বার গ্রেফতার হতে হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৫টির বেশি মামলার আসামি করা হয়েছে ও ২১৭ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। ২০১১ সালে প্রথম গ্রেফতারের পর ২০১৪, ২০১৮ ও পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকবার তাকে আটক করা হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের আগস্টে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে তুলে নিয়ে যায়,১ দিন গুম ২দিন থানা হাজতে রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতন করে কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ৫০ দিন কারাভোগের পর একই বছরের ৮ অক্টোবর তিনি মুক্তি পান।
বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি একাধিকবার আহত হয়েছেন বলেও জানান। ২০১৪–১৫ সালের আন্দোলন, ২০১৮ সালের নির্বাচন-পূর্ব সময়, ২০২১ সালের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং ২০২২–২৩ সালের সমাবেশ ও কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রুমির দাবি, এসব কর্মসূচির সময় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ ও হামলার শিকারও হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়েও রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, অবরোধ ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানান।
এছাড়া সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বচ্চ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি এবং অসংখ্য মানবিক কাজের মাধ্যমে রাজনীতি পরিচালিত করে যাচ্ছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলে নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রুমির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় উঠে আসছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

রমজান উপলক্ষে মাগুরায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও পণ্যের সরবরাহ

মো: আমির হামজা – রাশাহীর চারঘাট, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে মহড়া ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি

‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর