টেকনাফে ৪০০ জেলে পরিবারে হাসি ফোটালো বিজিবি

সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনে আবারও প্রশংসিত হলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বঙ্গোপসাগরে চলমান মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার ৪০০ অসহায় জেলে পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল হানিফুর রহমান।
জানা গেছে, সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। টানা ৫৮ দিনের এ নিষেধাজ্ঞায় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবার আয়-রোজগার হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়ে।
এ অবস্থায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীন বিভিন্ন বিওপি এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয় ৪০০ দুঃস্থ ও অসহায় জেলে পরিবারের হাতে।
 ভিডিওতে যা দেখা গেছে:
জেলে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করতে দেখা যায়। অনেকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। শিশু ও নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজিবি সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
 স্থানীয়দের ভাষ্য:
স্থানীয় জেলেরা জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন সময়ে বিজিবির এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।
এক জেলে বলেন,
“সমুদ্রে যেতে পারছি না, আয়ও বন্ধ। বিজিবি যে সহায়তা দিয়েছে, এতে অন্তত কয়েকদিন পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবো।”
বিজিবির বক্তব্য:
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের কল্যাণে কাজ করাও বাহিনীটির অন্যতম দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও জনসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
 উপকূলে মানবিকতার বার্তা:
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্যোগ ও সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির এই উদ্যোগ উপকূলীয় জনপদে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন