জামালপুর পৌরসভা নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আসন্ন এই নির্বাচনে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি নাম— খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম, স্বচ্ছ রাজনৈতিক ইমেজ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে জামালপুর পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী, তরুণ ভোটার এবং সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার ব্যক্তিগত সততা, মিষ্টভাষী আচরণ এবং মানুষের বিপদে এগিয়ে আসার গুণাবলি তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উত্থান
রুমেলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল স্কুলজীবন থেকেই। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৮৭ সালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে ভর্তির পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮৮ সালের আন্দোলনে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। এরপর ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক এবং ১৯৯৮ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ সংগ্রাম ও কারাবরণ
ছাত্ররাজনীতি শেষে মূল ধারার রাজনীতিতেও তিনি যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি অসংখ্য রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে অগ্রভাগে থাকায় তাকে জেল খাটতে হয়েছে প্রায় এক মাস। মামলা-হামলা উপেক্ষা করে তিনি সবসময় মাঠের কর্মীদের পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন।
যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত জীবন
শিক্ষাগত জীবনে তিনি এম কম ডিগ্রিধারী, যা ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। অত্যন্ত ধর্মভীরু ও মার্জিত মানুষ হিসেবে পরিচিত খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করেন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখেন।
আস্থার প্রতীক ও উন্নয়ন ভাবনা
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে পরিচিত রুমেল। পৌর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে একজন নৈতিকভাবে দৃঢ় নেতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন পৌরবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানান, “আমরা এমন একজন মেয়র চাই যিনি সহজলভ্য এবং যার কোনো দুর্নীতির দাগ নেই। সেই দিক থেকে রুমেল ভাই আমাদের প্রথম পছন্দ।”
আসন্ন নির্বাচনে খন্দকার আহসা




