দুবাইয়ে এক চীনা মালিকের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দেশে ফিরে আসা চকরিয়ার এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওই যুবকের নাম আল আমিন শিরু।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আল আমিন শিরু ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল হেলাল উদ্দিন এর মাধ্যমে দুবাইয়ে জন লিক্সিন এর মালিকানাধীন এউলি ইলেকট্রনিক এলএলসি নামে চিনা প্রতিষ্ঠানের দোকানে দুবাইয়ে কাজ করতেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় মালিকের আস্থার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।চিনা নাগরিক তাকে বিশ্বাস করে ব্যবসার সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারী চিন দেশে যান,এর সুযোগে আল আমিন মালিকের অজান্তে কম দামে মাল বিক্রি করে টাকা জমান,জমানো প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আল আমিন তার মায়ের একাউন্টে বাংলাদেশে পাচার করেন,ঘটনার পর তিনি গোপনে ভারত হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চীনা নাগরিক দেশ থেকে দুবাইতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় ১৩ মার্চ ২০২৬ ইং বাংলাদেশে আসেন,দেশে এসে চায়না দূতাবাসের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেন,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় চকরিয়া থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জন লিক্সিন অর্থ আত্মসাৎ এর মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা থেকে আল আমিন শিরুকে গ্রেফতার করা হয়।আল আমিন শিরুর গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পালাকাটা এলাকায় বলে জানা যায়,
মামলার তদন্তাকারি কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন জানান তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধমে তাকে কুমিল্লা থেকে আটক করা হয়,আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দুবাইয়ে বাংলাদেশী প্রায় ১ লাখ টাকা বেতনে চাকরি করতেন আল আমিন, এর আগে দুবাইয়ের ৩৭ হাজার টাকা দামের একটি মালামালের কাটুন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়েন তিনি,কিন্তু তা কোনো আইনি ব্যবস্হা না নিয়ে তাকে মানবিক কারণে ক্ষমা করেন চিনা মালিক,এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযুহাতে মালিকের কাছথেকে টাকা নিতেন,সর্বশেষ পরিবারে অসুস্থতার কথা বলে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা নেন,এর পরেও এমন লোভের বশবর্তী হয়ে এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে চিনা নাগরিক জন লিক্সিন খুব প্রকাশ করেন,তিনি জানান তার আত্মসাৎ কৃত ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আইনি মাধ্যমে ফেরত দিয়ে আসামি আল আমিন শিরুকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রধান করা হোক।




