লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ধরলা নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ইলেকট্রনিক শক দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা বেড়ে গেছে। এতে অসংখ্য দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় মাছ পানির উপরে ভেসে উঠছে। সকালে স্থানীয় সাধারণ মানুষ নদীর তীর ও অগভীর পানিতে ভেসে থাকা এসব মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে ধরলা নদীর বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা যায়। রাতের বেলা অসাধু কিছু জেলে ব্যাটারি ও বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে নদীর পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ শিকার করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরার ফলে শুধু বড় মাছই নয়, ছোট মাছ ও পোনা মাছও মারা যাচ্ছে। ফলে নদীর প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক সময় পানিতে থাকা অন্যান্য জলজ প্রাণীও এতে মারা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের আঁধারে নদীতে নৌকা নিয়ে এসে কিছু ব্যক্তি ইলেকট্রনিক শক ব্যবহার করে মাছ ধরে। বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণে মাছ অচেতন হয়ে বা মারা গিয়ে পানির উপরে ভেসে ওঠে। পরে ভোর হলে নদীর তীরবর্তী মানুষ এসব মাছ কুড়িয়ে নিয়ে যায়।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে নদীর প্রাকৃতিক মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অবৈধভাবে এভাবে মাছ শিকার বন্ধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে ধরলা নদীর দেশীয় মাছের অস্তিত্ব একসময় হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, বিষয়ট আমাদের নজরে এসেছে; আমার সনাক্ত করার চেষ্টা করছি, খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনা হবে।




