নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্যায়ের সমাপনী

“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”  এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর ক্রিকেট, কাবাডি, মার্শাল আর্ট ও দাবা প্রতিযোগিতার ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী বলেন, তোমরা সবাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছ। তবে এখানে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি আমি। কারণ, একজন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যারা বিজয়ী হয়েছো, সব দলই আমার। আবার যারা জয়ী হতে পারোনি, সেই দলগুলোও আমার। অর্থাৎ আমি যেমন বিজয়ী হয়েছি, তেমনি হারও দেখেছি। আর এটাই হচ্ছে খেলাধুলার প্রকৃত সৌন্দর্য। তোমাদের খেলার মাধ্যমে আমরা অনেক আনন্দ পেয়েছি। এটাই সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
তিনি বলেন, আগামীতে তোমাদের সামনে আরও অনেক সুযোগ রয়েছে। তোমরা জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণ করবে। আমি আশা করি, আমাদের ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিটি খেলায় জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হবে। তোমাদের এই স্পিরিট ও মনোবল যদি বজায় থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা সেরা হতে পারব।
কমিশনার বলেন, তোমরা খেলাধুলাকে ভালোবাসবে, খেলাধুলার মধ্যেই বাঁচবে। অনেকে হয়তো খেলাকে পেশা হিসেবেও নিতে পারো। খেলাধুলা একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও সম্ভাবনাময় পেশা। দেশে আমরা যতটুকু আর্থিক সহায়তা দিতে পারি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন খেলোয়াড়ের মূল্য ও সম্মান আরও অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় কথা, একজন ভালো খেলোয়াড় একাই বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলতে পারে। আমি আশা করি, তোমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, পড়াশোনা ছাড়া জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা সম্ভব হয় না।
ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান-এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এ.কে.এম মাহবুবুল আলম, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শহিদুল আমিন খসরু প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ অঞ্চলের  বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিশু-কিশোর ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”