নৌ-পরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাঈম খানের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগ তদন্ত-পূর্বক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা অভিযোগটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ নাইম খান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নাঈম খানের পরিবারের দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার পরে মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন মাধ্যমে মাধ্যমে কিছুদিন কথা হয়। একবার খুলনা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে কিছুক্ষণের জন্য দেখা করে তারা। তবে তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি এবং সামাজিক ও পেশাগতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে ওই তরুণী একটি ভাড়া করা মোটরসাইকেল যোগে নাঈম খানের বাড়ির সামনে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হন। এভাবে এখানে আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলেন, আমি নাঈম খান কে বিয়ে করবো তাই আমি তার বাড়িতে এসেছি। এ সময় নাঈম খান বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।

নাঈম খানের বাবা খান মনিরুজ্জামান দুলাল বলেন, ‘২৯ জুলাই বাজার করতে যাওয়ার সময় একটি মেয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি নাঈম খানের বাবা কি না। পরিচয় দেওয়ার পর সে জানায়, নাঈম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাই এখানে এসেছি। ছেলে কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়েটি বলে আপনার ছেলে বরিশাল আছে তাকে বাড়িতে ডেকে আনেন। বিষয়টি নিয়ে ছেলের সাথে কথা হলে ফোনে সে আমাকে জানায়, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কয়েকদিন ফোনে কথা হয়েছিল মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয়রা তরুণীকে নাঈমের বন্ধু হৃদয়ের বাড়িতে রাখে। পরে জেনেছি প্রায় সপ্তাহখানে ক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম তালুকদারের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিল ওই তরুণী। এখন সে এ এলাকায় নেই। তবে কোথায় আছে বলতে পারছি না।

নাঈমের বন্ধু হৃদয় বলেন, আমার বন্ধু নাঈমকে বিয়ের দাবিতে এক তরুণী এলাকায় এসে নাঈমের বাড়ির সামনে অবস্থান করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আমিও সেখানে উপস্থিত হই। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তরুণীকে রাতে আমার বাড়িতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরের দিন স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি বাড়িতে ছিল। কয়েকদিন হল সে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। নাঈম অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রতিবাদ জানান তিনি।

্খান আবদুল বাহার, খান কবির হোসেন,আয়েশা সিদ্দিকা জেবুসহ এলাকাবাসীর দাবি, ২৯ জুলাই ওই তরুণী নাঈম খানের বাড়ির সামনে অবস্থান করলেও নাঈমকে সেখানে দেখা যায়নি। তাদের মতে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা। এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল চালক শাহাদাত হোসেন জানান, একটি মেয়ে গত ২৯ জুলাই বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে মোড়েলগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে আমার মোটরসাইকেলে পাঁচগাও বাজারে যায়। সেখানে পৌঁছে আমাকে ভাড়ার টাকা দিলে আমি ফিরে আসি।

ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে নাঈম খান দাবি করেছেন, অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা অচেতন করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। মেয়েটির সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়। একবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিছুক্ষণের জন্য দেখা হয়েছিল। অন্য কোন কিছু নয়। সে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমার বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা অভিযোগের বিষয়টি শুনে অবাক হয়েছি। তদন্ত-পূর্বক অভিযোগটি প্রত্যাহারের দাবী জানান তিনি।
পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, গুরুতর এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন