প্রশাসক রুকনুজ্জামান রোকনের সক্রিয়তায় গতি ফিরছে ময়মনসিংহ নগরীর উন্নয়নে

দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক তরুণ জনবান্ধব রাজনীতিবিধ রুকনুজ্জামান  রোকন নগর প্রশাসনে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। গত ১৬ মার্চ দায়িত্ব নেয়ার সময় ‘শাসক নয়, সেবক’ হওয়ার যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যেই তিনি ময়মনসিংহকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। নগরের মশা নিধন, খাল-নর্দমা পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট কমানো এবং নাগরিক সেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসাবে বেছে নিয়েছেন প্রশাসক রুকনুজ্জামান  রোকন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কাটলেও ইতোমধ্যে মসিকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নগরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে নগরীর কোথায় কি সমস্যা আছে সেগুলো অবগত হন এবং সেসব এলাকা পরিদর্শন করে নগরবসসীর সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করছেন। নাগরিকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বল্পমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা নিয়ে সব বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে নাগরিকরা দ্রুত ও কার্যকর সেবা পান। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন নাগরিকরা আরও ভালো সেবা পাবেন, সেই লক্ষ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রশাসক রুকনুজ্জামান  রোকন।
দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকা নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় করে তিনি মাঠপর্যায়ের কাজে গতি এনেছেন। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ‘নাগরিক ভাবনা’ ও ‘উন্নয়ন সংলাপ’ শীর্ষক একাধিক আলোচনার আয়োজন করে তিনি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত সংগ্রহ করেন। এসব সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করছেন এবং বেশ কিছু উদ্যোগ বর্তমানে চলমান রেখেছেন।
ঈদের আগেই তিনি নগরীর সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া ‘ঈদ উপহার’ আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। ময়মনসিংহে কর্মরত  গণমাধ্যম কর্মী ও পেশাজীবীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তিনি তার যাবতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নগরবাসীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চালু করা হয়েছে অনলাইন হেল্পডেস্ক। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে নাগরিক সেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান সচেতন নগরবাসীরা।
সিটি করপোরেশনের যানজট নিরসন,জলাবদ্ধতা নিরসনসহ ভবনের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ‘দীর্ঘদিনের ভোগান্তি’ জট নিরসনেও উদ্যোগ নিয়েছেন প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আবেদনকারীদের মুখোমুখি সংলাপের মাধ্যমে জটিলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই যানজট নিরসনের লক্ষে তিনি ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর রিকশা ও মিশুক মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করে তাদের সহযোগীতা চেয়েছেন এজই সাথে শহরে লাইসেন্সবিহীন রিকশা ও মিশুক চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিএনপি সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তিনি ময়মনসিংহ  নগরীর  ‘ময়লার ভাগাড়’ একাধিকবার পরিদর্শন করেন। এরপর ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। নগরীর গাঙ্গিনাড়পাড়, ব্রীজমোড়,চড়পাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে দীর্ঘদিন যাবত জনদুর্ভোগ তৈরি করা অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে তিনি নাগরিকদের দোয়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন।
নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান- রুকনুজ্জামান  রোকন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর পরই ফুটপাত দখলমুক্ত করে যানজট নিরসনে ভূমিকা রেখে ‘যৌক্তিক’ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এ জন্য তিনি সব স্তরের জনতা, সংগঠক ও পেশাজীবীদের প্রশংসা পাচ্ছেন।
যুবদলের অন্যতম নেতা শাহিনুল ইসলাম সাগর
 বলেন, রুকনুজ্জামান  রোকন ভাই সবাইকে সম্মান ও মূল্যায়ন করছেন। এই ধারা চলতে থাকলে ময়মনসিংহ  বিএনপিতে ভবিষ্যতে গ্রুপিংয়ের কোনো রাজনীতি থাকবে না। ময়মনসিংহ মহানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুবর্ণ বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আরিক রেওগীর  বলেন, ‘স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরেছে। সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রবণতা আশাব্যঞ্জক। একজন ব্যবসায়ী নেতা  জানান, ‘প্রশাসকের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নগর উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন-রুকনুজ্জামান  রোকনের
 জন্ম এবং বেড়ে ওঠা এই শহরেই। তিনি তার স্বপ্নের শহরকে মনের মতো সাজানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
গত এক মাসের সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে ময়মনসিংহ  সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকনুজ্জামান  রোকন
 এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার দিন সবার সামনে প্রকাশ্যেই বলেছি- ‘শাসক হিসেবে নয়, আপনাদের সেবক হয়ে থাকবো’। এই বাক্যটি সব সময় মনে রেখে পথ চলছি। স্থানীয়দের মতে, কর্মকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ময়মনসিংহ  নগরীর উন্নয়নের গতি আরো বেগবান হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন