নাটোরের বড়াইগ্রামে কৃষি শ্রমিক মোবারক হোসেন হত্যা মামলায় ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
১৫ মার্চ রোববার বেলা ১২টার দিকে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪ এর বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আরিফা খাতুন, আসাদুল ইসলাম, আব্দুর রশীদ ও জিহাদ আলী।
এদিকে বিকেল শেষে সন্ধ্যা হতে চললেও মোবারক বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিলে খোঁজাখুজি শুরু করেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে সন্ধ্যার পর বিলের মধ্যে মোবারক হোসেনের হাত-পা পাট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় নিহত মোবারক হোসেনের স্ত্রী মোছা. রানী বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিবেশী আরিফা খাতুনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা খাতুনের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসাদুল ইসলাম, আব্দুর রশীদ ও জিহাদ আলীর নাম প্রকাশ করে।
পরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে এবং তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিন করেন। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণায় বাদী পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।




