বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের হেদায়েতপুর এলাকায় ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে হত্যাচেষ্টা ও লুটপাটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও মর্মান্তিক। তারা বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করারও আহ্বান জানান তারা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল রাতে হেদায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা এস এম আশরাফ আলীর স্ত্রী আঙ্গুরা আশরাফ (৭৩) খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতকারী জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বৃদ্ধা জেগে উঠলে দুষ্কৃতকারীরা তাকে খাট থেকে ফেলে দেয় এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ সময় তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার এবং ঘরের ড্রয়ারে রাখা নগদ টাকা লুট করে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাগেরবাজার এলাকার আতাউর বারী ও তার ছেলে মিনহাজুল বারী, কাশিমপুর এলাকার সজীব হাওলাদার এবং রনজিত মৃধাকে আটক করে।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর ছেলে এসএম নিয়ামুল বারী জানান, ২০১০ সালেও তার মায়ের ওপর একবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে তিনি একাই বাড়িতে বসবাস করেন। ঘটনার রাতে আসামিরা তার মাকে মারধর করে খাট থেকে ফেলে দেয়, এতে তার শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে যায়। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার মা সুস্থ হয়ে উঠলেও পুনরায় হামলার শিকার হতে পারেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।




