ভোলার উপকূলীয় উপজেলা তজুমদ্দিন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার শিশু। সামান্য ঠান্ডা লাগা, জ্বর কিংবা নিউমোনিয়ার মতো ব্যাধিতে ও বাধ্য হয়ে রোগীদের নিয়ে যেতে হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা দূরের কোনো শহরে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে ভোগান্তি, অন্যদিকে দরিদ্র পরিবারের জন্য চিকিৎসার অতিরিক্ত খরচ বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক অসুস্থ শিশু নিয়ে অভিভাবকরা আসেন, কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় সাধারণ চিকিৎসকদের দিয়েই কোনোমতে প্রাথমিক চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। জটিল বা আশঙ্কাজনক রোগীদের সরাসরি ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাচ্চার কয়েক দিন ধরে খুব কাশি আর শ্বাসকষ্ট। তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসছিলাম ভালো ডাক্তার দেখাব বলে। কিন্তু এসে শুনি এখানে কোনো শিশু ডাক্তার নেই। সাধারণ ডাক্তার দেখিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, ভয় পাচ্ছি কোনো বড় সমস্যা হয় কি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীবেষ্টিত ও বিচ্ছিন্ন এই উপজেলার বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র ও নিম্নআয়ের। জরুরি মুহূর্তে দূরের হাসপাতালে যাওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা অনেকেরই থাকে না। দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে একজন স্থায়ী শিশু বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা হলে দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপকূলীয় এ জনপদের শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পদায়নের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তজুমদ্দিনের সচেতন নাগরিক সমাজ।




