‘যখন বাস ফেরিতে উঠছিল, তখন হঠাৎ করে উল্টে যায়। বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছি। আমি মায়ের কোলে বসে ছিলাম। মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। সাঁতার কেটে উপরে চলে আসি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না’—কেঁদে কেঁদে বলছিল আলিফ। গতকাল বুধবার রাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কালবেলাকে এসব কথা বলছিল মাকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আলিফ। সেখানে আলিফের সঙ্গে ছিলেন তার নানি সাহেদা বেগম।
সাহেদা জানান, তার মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) ঢাকার বাইপাইল এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়।
“জ্যোৎস্নাকে আমি বাসে তুলে দিয়েছিলাম। বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। তখন জ্যোৎস্না আমাকে বলে, ‘আম্মা, বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে।’ এরপর আর কোনো কথা শুনি নাই। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেল,” এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাহেদা।রাত ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মেয়ের লাশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সাহেদা। মেয়েকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। তার কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ।
এদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনার পর বাসটির ১১ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ থাকেন অনেকে। তলিয়ে যাওয়া বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন।




