৩৮ দিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাণ ফিরে এলো

রোজা, সাপ্তাহিক ছুটি ও স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে টানা ৩৮ দিনের দীর্ঘ বিরতির পর আজ রোববার (২৯ মার্চ) দেশজুড়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য, আর শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সরব উপস্থিতিতে আবারও মুখর হয়ে উঠেছে শিক্ষা কার্যক্রম।
রোজা, ঈদ ও অন্যান্য ছুটির কারণে টানা এই বিরতি শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে, যা শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ)। এরপর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি পেরিয়ে আজ থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ ছুটির পর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য। শিক্ষালয়ের আঙিনা জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ—শিক্ষার্থীদের কোলাহল, হাসি আর দৌড়ঝাঁপে মুখর চারপাশ। ঘণ্টার টংটং শব্দে শুরু হচ্ছে ক্লাস, এক ক্লাস শেষ হতেই আরেক ক্লাসে ছুটে চলা—সব মিলিয়ে যেন আনন্দঘন এক দিন।
শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস ও নতুন উদ্যম। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে তারা ছিল উজ্জ্বল। কেউ গল্পে মেতে উঠেছে, কেউ আবার নতুন বই-খাতায় মন দিচ্ছে পড়াশোনায়। তাদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে শ্রেণিকক্ষ; বেঞ্চ-ডেস্ক যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, শিক্ষকদের মাঝেও লক্ষ্য করা গেছে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার নতুন উদ্দীপনা। তারা শিক্ষার্থীদের সাদরে বরণ করে নিচ্ছেন, খোঁজ নিচ্ছেন ছুটির সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। অনেক শিক্ষক পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে উৎসাহমূলক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যাতে তারা দ্রুত শিক্ষার ধারায় ফিরে আসতে পারে। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ছিল প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক—প্রশ্নোত্তর ও আলোচনায় ছিল সরব উপস্থিতি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই প্রাণবন্ত পরিবেশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসতে সবার মাঝে যে ইতিবাচক মনোভাব ও উদ্দীপনা দেখা গেছে, তা আগামী দিনের জন্য আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রোজা ও ঈদের কারণে বছরের প্রথম তিন মাসে শ্রেণি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। ফলে শিক্ষণ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ছুটি শেষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোদমে পাঠদান চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ৮ মার্চ থেকে। তবে অভিভাবকদের রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশ এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি শুরু হয়।
সংশোধিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি পালন করা হয়।
শিক্ষণ ঘাটতি পূরণে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের ছুটির পর প্রথম ১০টি শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে শনিবারের ছুটি বাতিলের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন