আগামীকাল বাঁশখালী আসছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,বন্যাদুর্গত ১০০ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগামীকাল রোববার বাঁশখালী সফরে আসছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং গৃহহীন ১০০টি পরিবারের মাঝে নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন।
জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকা থেকে ১০টি করে মোট ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নির্বাচন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে তাদের জন্য দুর্যোগ-সহনীয় নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ ঘরের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে ঘরগুলো আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ এবং ৫ ফুট × ৫ ফুট আয়তনের একটি সংযুক্ত শৌচাগার রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে হেলিপ্যাড এবং প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল। নিরাপত্তা, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা ও অনুষ্ঠান পরিচালনার সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সম্প্রতি বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন অনুষ্ঠানস্থল ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দিকনির্দেশনামূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সমাবেশস্থল, হেলিপ্যাড ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা পায়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল ও সার্থক করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।”
এদিকে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের অন্যতম প্রত্যাশা হলো—বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের টেকসই পুনর্বাসন, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সমগ্র উপকূলজুড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক বাস্তবায়ন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা এডভোকেট শওকত ওসমান জানান যে,বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী,মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। এরপর চট্টগ্রাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় গিয়ে কবর জিয়ারত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা বিতরণের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

আলফাডাঙ্গায় ৮০০ ফুট কাঁচা রাস্তায় চরম দুর্ভোগ: দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের জাটিগ্রাম দরুনা মন্দির থেকে দক্ষিণপাড়া