ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের জাটিগ্রাম দরুনা মন্দির থেকে দক্ষিণপাড়া এলাকার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটি কাদায় পরিণত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে সেখানে। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো নানা দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাটিগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় প্রায় ৪০টি পরিবারের বাস। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই যাতায়াত করেন শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ। মূল সড়ক থেকে প্রায় ৬০০ ফুট রাস্তার কাজ আগে সম্পন্ন হলেও, দরুনা মন্দির থেকে দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত আরও আনুমানিক ৮০০ ফুট রাস্তা এখনও কাঁচা ও অবহেলিত রয়ে গেছে। যা দ্রুত সংস্কার ও ইটের সলিং করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে স্থানীয় মোঃ সিদ্দিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের গ্রামের এই রাস্তাটি বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলিত। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হয়। ভোটের সময় সবাই আসে, ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ রাখে না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আলফাডাঙ্গা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের কষ্ট তুলে ধরে মোঃ মনির হোসেন বলেন, ৪০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ এটি। তাছাড়া মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল কৃষকরা এই রাস্তা দিয়েই বাড়িতে নিয়ে আসেন। কাদার কারণে ফসল আনতেও মারাত্মক কষ্ট হয়।
বিশেষ করে নারী ও গর্ভবতী রোগীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, এলাকার কোনো মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া এক বিরাট যুদ্ধ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের এই ঝাঁকুনি আর কাদার রাস্তা দিয়ে নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তাটি দ্রুত পাকা বা ইটের সলিং করা হলে আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হতো।
রাস্তাটির বেহাল দশার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ওয়ার্ডের এই রাস্তাটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। জনসাধারণের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন দ্রুত রাস্তাটির বাকি অংশ ইটের সলিং করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বুলবুল বলেন, রাস্তাটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনসাধারণের দুর্ভোগ নিরসন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করা এবং জরুরি চিকিৎসার সুবিধার্থে দ্রুততম সময়ে রাস্তাটির বাকি ৮০০ ফুট অংশে ইটের সলিংসহ সংস্কার কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।




