জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে খোলাবাজারে (ওএমএস) স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা কিনতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শত শত মানুষ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকেই খাদ্যপণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে নারী-পুরুষের পৃথক সারিতে শত শত মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। সকাল ৯টার আগেই ট্রাক আসার অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তীব্র গরম ও থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যেও মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন।
পৌরশহরের রাজকান্দা মহল্লার বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, “আটা আর চাল নিতে আসছি। সকাল আটটার দিকে আইছি, এখন বিকেল সাড়ে তিনটা বাজে। দিনই চলি যায়, বাড়ির কোনো কাজ হয় না।”
একই দুর্ভোগের কথা জানান বিহারপুর মহল্লার হালিমা বিবি। তিনি বলেন, “সকাল সাতটার দিকে এসেছি। এখন দুপুর আড়াইটা বাজে, এখনো চাল-আটা পাইনি। এটা নিতে এসে সংসারের কোনো কাজ করতে পারছি না। গরম আর বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে অনেকেই লাইনের পাশে বসে অপেক্ষা করছেন। বিক্রয় কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় উপকারভোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে অনেকেই খাদ্যপণ্য সংগ্রহ না করেই ফিরে যান।
খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ ওএমএস কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন (রোববার থেকে বৃহস্পতিবার) প্রতিদিন দুই টন চাল ও দুই টন আটা বিক্রি করা হয়। একজন উপকারভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন এ সুবিধা পান।
বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা যায়, নির্ধারিত মূল্য গ্রহণ, আঙুলের ছাপ নেওয়া, অমোচনীয় কালি লাগানো এবং খাদ্যপণ্য বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একজনের ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। ফলে বিক্রির গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে।
অপেক্ষমাণ কয়েকজন জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে চাল ও আটা পাওয়ায় প্রতিদিনই মানুষের চাপ থাকে। কিন্তু ধীরগতির বিক্রয় কার্যক্রমের কারণে দিনমজুরদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং গৃহিণীদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মো. মাহবুব হোসেন বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি বুথে কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে একটি বুথ থেকেই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে চলতি মাস পর্যন্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এরপর ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।



