মঙ্গলবার,২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইনাতগঞ্জ বাজারে ভেঙে পড়া বনবিভাগের সরকারি গাছ—সড়কের এক-তৃতীয়াংশ ধসে জনদুর্ভোগ চরমে, দ্রুত ব্যবস্থা চায় এলাকাবাসী

৩নং ইনাতগঞ্জ বাজারে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একটি বড় বনবিভাগের আওতাধীন সরকারি গাছ ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। গাছটি ভেঙে পড়ার ফলে সড়কের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশ ধসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে জনসাধারণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাছটি হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে এবং এর চাপেই রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে নিচে দেবে যায়। এতে করে সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে, ফলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে স্কুল শুরু এবং ছুটির সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে এই ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। অভিভাবকরাও আতঙ্কের মধ্যে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া সড়কটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ভেঙে পড়া গাছ ও সড়কের গর্তের কারণে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, ফলে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এদিকে উদ্বেগজনকভাবে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু চক্র গোপনে এই গাছের মূল্যবান অংশ কেটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। যেহেতু গাছটি বনবিভাগের আওতাধীন একটি সরকারি সম্পদ, তাই এর সুরক্ষা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অন্যথায় এটি শুধু সরকারি সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে করে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই। তারা মনে করছেন, দ্রুত গাছটি অপসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত গাছটি অপসারণ, রাস্তার ভেঙে যাওয়া অংশ পূর্ণাঙ্গভাবে মেরামত এবং পুরো সড়কটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য করে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন।

একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।

 

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে পিসিসিপির গভীর শ্রদ্ধা ও জাতি গঠনে তাঁর আদর্শ ধারণের আহ্বান

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি জাতির গৌরব, বীরশ্রেষ্ঠ