দুই এডিসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, নথি তলবের নির্দেশ আদালতের
১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ; বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপে নতুন মোড়
বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি)সহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলবের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ভুক্তভোগী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মো. আবদুর রহিম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন—অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।
বাদীপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রফেসর আখতার আলম মহেশখালীর বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ দেন। পরে ঋণগ্রহীতা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। আদালত বিবাদীকে পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে আদালত জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিবাদীর নামে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলে যাচাই-বাছাই শেষে আদেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন কৌশলে অর্থ ছাড় না দিয়ে তা আটকে রাখেন। ২০২৪ সালে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হলে আবারও অর্থ পরিশোধের নির্দেশ আসে।
এরপরও অভিযুক্তরা যোগসাজশ করে প্রাপ্য অর্থ ছাড় করতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে পুনরায় আদালতে আবেদন করলে বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলবের নির্দেশ দেন, যা মামলার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
এদিকে আদালতের আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী প্রফেসর আখতার আলম বলেন, “আমি আশা করছি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।




