পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজজেলার কামারশালাগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা। পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় দা, বঁটি, চাপাতি, ছুরি ও হাসুয়া তৈরিতে দিন-রাত কাজ করছেন কামাররা। কয়লার আগুনে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সরঞ্জাম। এতে উপজেলার বাজারগুলোতে এখন শোনা যাচ্ছে ‘টুং টাং’ শব্দের ব্যস্ত সুর।
উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ১৫টি বাজার ও বিভিন্ন অলিগলিতে থাকা শতাধিক কামারশালায় চলছে পুরোদমে কাজ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কম হলেও পুরোনো পদ্ধতিতেই দক্ষ হাতে তৈরি করা হচ্ছে কোরবানির সরঞ্জাম। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-বঁটি ও চাপাতিতে শাণ দিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
দালান বাজারের কামার কমল চন্দ্র কর্মকার জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে জড়িত। কোরবানির ঈদ এলেই তাদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “এখন দম ফেলার সময় নেই। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কাজ চলবে।”
তবে ব্যস্ততার মাঝেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন অনেক কারিগর। জামালপুর বাজারের কামার সুমন বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ থাকে না। বিদেশি স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জামের কারণে দেশীয় পণ্যের চাহিদাও কমছে। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, “সারাবছর কাজ কম থাকে। শুধু কোরবানির সময় কিছু আয় হয়। দিনে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হলেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় চাপাতি বর্তমানে কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশি চাপাতি আকারভেদে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কারিগরদের আশঙ্কা, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।




