গোয়ালন্দে বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির আঙ্গুর। শুরুতে ইউটিউব দেখে শখের বসে আঙুর চাষ শুরু করেন| সেই শখ এখন রূপ নিয়েছে বাণিজ্যিক ভাবে| রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা উইনিয়নের মোল্লা পাড়ায় আঙুর চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তরুণ উদ্যোক্তা এস ফারদিন| তিনি দেড় বিঘা জমিতে পরীক্ষামুলক ভাবে এই আঙুর চাষ করেন তাতে ব্যাপক ফলন হয়েছে|
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ইউটিউব দেখে শখের বসে পরীক্ষামুলক ভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন তরুণ উদ্যোক্তা এস ফারদিন| তার দেড় বিঘা জমিতে ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ২০৪ টি বিভিন্ন প্রজাতির আঙুন গাছ রোপন করেন| ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে জাপানিজ ,টমসন সিডলেস সবুজ, কনকর্ড, বেগুনি ,ত্রিুমসন লাল , মনাক্কা ,মুন ড্রাগ,সুপারোন,বাইকুনুরসহ বিভিন্ন জাতের আঙুর চাষে সাফলতার আশা দেখাচ্ছেন| এই আঙুরের বাগাটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে|
এস ফারদিন জানান, প্রতি এক বছর পর পর ব্যাপক ফলন দিয়ে থাকে এই আঙ্গুর গাছগুলো।
বাগানের ফল বিক্রির পাশা পাশি আঙুরে চারা বিক্রি করছেন তিনি| বর্তমানে তার বাগানে এর মধ্যে প্রায় প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলছে| বাগানে বাইকুনুন, একুলো, জুঁই, ব্লাকম্যাজিক ও ব্যালেক্স জাতের গাছ রয়েছে|আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফল বিক্রির উপযোগী হবে ফলগুলো ব্যাপক মিষ্টি। বর্তমানে ১৩ শত চারা বিক্রির উপযোগী হয়েছে। প্রতিটি চারা ৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এ সময় এস ফারদিন আরও বলেন,আমার এ প্রজেক্টা হচ্ছে গ্রেপ ইঞ্জিনিয়ারিং এগ্রো শখ থেকেই শুরু| প্রথমে আমার বাড়ীতে একটি আঙুন গাছ রোপন করেছিলাম। সেই থেকে একটি রেজালন্ট পাই আঙুন টা মিষ্টি কিন্তু খোসাটা মোটা একটু জেলি ধরনের| বেভেছিলাম নতুন একটি প্রজেক্ট আমি করবো যে টা ভাল জাত ওয়ার্ল্ডের সে গুলো থাকবে। সেই উদ্দেশ্যে আমি ২০২৫ সালে দেশের বাহির থেকে বিভিন্ন ইনপোর্টার এর মাধ্যমে কিছু চারা এনে এই বাগানটি করি। আমার বাগানের বয়স ১বছর হতে আর কয়েকদিন বাকি| এই বাগানটি শখের বসে শুরু হলেও বর্তমানে এটা আমার বাগানটি রিসার্চ বেস্ট প্রজেক্ট। এখানে কিছু থোকা আছে খুবী বড় পাতলা আরেক টি থোকা ছোট ঘন তো একটু বেশি এ আঙুরগুলোর উপর বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করেছি| যে বিশেষ করে জিব্রাইল এসিড দিয়ে ছিলাম | এটা কত হারে দিলে থোকা গুলো লম্বা হবে। একটিতে দিয়েছিলাম পয়েন্ট ৩৩ এম এল। আরেকটিতে দিয়েছিলাম পয়েন্ট ৫ এম এল। এতে রেজাল্ট গুলো একটু আলাদা আলাদা হয়েছে| একটু বেশি হলে ফলন গুলো ঝড়ে যাবে |আমি এখানে বিভিন্ন ওষুধের উপর কাজ করছি। আমাদের আঙুর বাগানের ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতি করে মাকড় নামে পোকা।
আঙ্গুর বাগানের শুরুতে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করলেও এখন গাছে ফল দেখে উৎসাহ লাগছে। আমি আরো ৫ বিঘা জমিতে আঙুর ফলের চারা রোপন করবো, কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি আঙুর গাছে একি ধারে ৫০ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। গাছের বয়স যত বাড়বে ফলন তত বাড়বে। তিনি আরও বলেন, গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা, পোকামাকড় ও পাখির আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা আঙুর চাষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ| আঙুর চাষে সার ও কীটনাশক খরচ খুবই কম| গাছ রোপণের আগে পটাশ, এমওপি, ডিএপি, জিপসাম ও বেশি পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করতে হয়| তবে রাসায়নিক সার খুবই কম দিতে হয়|
রমজান মোল্লা জানান, ফারদিন একটি বেসরকারি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন। সেই চাকরি বাদ দিয়ে নিজ উদ্যোগে দেশের কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সে দেশের বিভিন্ন প্রজাতির আঙুর চারা এনে রপন করেছেন। এই বাগানের আঙ্গুর বেশ সুস্বাদু। এই আঙ্গুর বাগানটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন আসে আমাদের এখানে। ফারদিনের বাগান দেখে এখন আশেপাশের লোকজনও আঙ্গুর বাগান করার জন্য উৎসাহ পাচ্ছে।
মোল্লাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম শরীফুল ইসলাম জানান, এই আঙ্গুর বাগানে দেশি বিদেশীর ২০৪ টি জাতের আঙ্গুর গাছ রয়েছে। আঙ্গুর গুলো দেখতে সাইজে বেস বড়। খেতেও খুবই সুস্বাদু। আঙ্গুর বাগানের পাশাপাশি তিনি এখান থেকে প্রতিদিন আঙ্গুরের চারা বিক্রি করছেন। বাগানের একটু পাশেই আরো বড় পরিসরে আরেকটি আগর বাগান করছেন। তিনি একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার দৈনিক আজকের খবর কে জানান, তরুণ উদ্যোক্তা এস ফারদিন যে জাতের চারা সে এনেছে তা এই মাটি ও আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। আঙুর ফলের যে প্রজেক্টটি করেছে তা প্রশংসনীয়। সে বেসরকারি একটি ইউনিভার্সিটি শিক্ষক ছিলেন। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে সে একজন দক্ষ উদ্যোক্তা। আঙ্গুর চাষের বিষয়ে তার ভালো জ্ঞান রয়েছে। আমরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছি।



