চরফ্যাশনে ডাক্তার আঁখি’র হাতে প্রসূতির মৃত্যু

ভোলার চরফ্যাশনে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের সময় এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে।

বুধবার রাতে উপজেলার ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মুন্নি আক্তার (২০) উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী কাশেম খন্দকার স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মুন্নির প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত ইকরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আঁখি আক্তার কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। তাদের দাবি, নার্সের দেওয়া একটি ইনজেকশনের পর থেকেই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হলেও কিছু সময় পর মুন্নির মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানায় এবং দ্রুত বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের মৃত্যু হওয়ার পরও তারা আমাদের কিছু বুঝতে দেয়নি। পরে অন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, অপারেশনের সময়ই সে মারা গেছে।”

এ ঘটনায় স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাপে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতেই দাফন করা হয় বলে দাবি পরিবারের।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকের চিকিৎসা ব্যয়ের কথা বলে পরিবারের হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ডা. আঁখি আক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় একাধিক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। তবে কোনো ঘটনায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক বশির আহমেদ বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা গুরুতর ছিল। গর্ভের সন্তানের অবস্থাও সংকটাপন্ন থাকায় দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রোগীর জ্ঞান না ফেরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের ধারণা—অস্ত্রোপচারের সময় স্ট্রোক করার কারণেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন