রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবি এবং এক আবাসন ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর শিরোইল স্টেশন রোডের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১০০ জন সদস্যের যৌথ উদ্যোগে ‘রাজশাহী টাওয়ার’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। ভবনের পাশেই অবস্থিত ‘হকস ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের মালিক এনাজুল হক অমির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই হোটেলের ক্ষয়ক্ষতির অজুহাত দেখিয়ে অমি ২৬ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। তবে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর পরিদর্শনে হোটেলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাজ সচল রাখতে এবং বিরোধ এড়াতে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপরও বুধবার (১৩ মে) ঢালাই কাজ চলাকালে এনাজুল হক অমি দলবল নিয়ে নির্মাণস্থলে প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় তিনি প্রকল্পের উদ্যোক্তা মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বাকি টাকা আদায়ের চাপ দিয়ে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে নির্মাণ শ্রমিক ও সাইট ইঞ্জিনিয়াররা বাধা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, “চাঁদার টাকা না পেয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে এনাজুল হক অমি দাবি করেন, তার হোটেলের ভবনে ফাটল ধরায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৬ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েক দফায় ১৪ লাখ টাকা পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। বাকি টাকা না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




