জন্মদিন মানেই কি শুধু
মিষ্টি, পায়েস, সিন্নি খাওয়া?
কেক কেটে হইচই করে
গান গেয়ে রাতটা কাটানো?
রঙিন বাতির ঝলকানিতে
হাসির অভিনয় সাজানো,
কয়েকটা ছবি তুলে রেখে
স্মৃতির খাতায় নাম লেখানো?
জন্মদিন মানে তো আরো
জীবনের এক ধাপ ফুরানো,
সময় নামের কঠিন নদী
একটু একটু দূরে টানা।
ক্যালেন্ডারের পাতায় শুধু
আরো একটি বছর ঝরা,
শৈশব, যৌবন, স্বপ্নগুলো
ধীরে ধীরে পিছু হটা।
ছোটবেলায় জন্মদিন এলে
মনটা কেমন নেচে উঠতো,
নতুন জামা, মোমের আলো
সারাদিনে সুখই ফুটতো।
কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে
মানুষ যখন বুঝতে শেখে,
প্রতিটা বছর কমে আসা
হায়াতেরই হিসাব দেখে।
যদি কেউ জেনে যায় হঠাৎ—
আর মাত্র এক বছর বাকি,
তবুও কি সে হাসিমুখে
কেক কাটবে সবারে ডাকি?
বন্ধুদের ভিড়ের মাঝেও
মনটা কি আর হাসতে পারবে?
নাকি মৃত্যুর নীরব ছায়া
সব আনন্দ ঢেকে রাখবে?
নাকি সেদিন কেকের টুকরো
গলায় গিয়ে আটকে যাবে,
“শুভ জন্মদিন” শব্দটাও
বুকের ভিতর কাঁটা হবে।
চারপাশ ভরা উল্লাস দেখে
চোখটা হঠাৎ ভিজে উঠবে,
কারণ সে তো জানে ভালো—
সময় তার ফুরিয়ে যাবে।
এই দুনিয়ায় মানুষ আসে
কয়েক দিনের অতিথি হয়ে,
তবুও কত অহংকারে
নিজেকেই রাখে বড় ভেবে।
জন্মদিন তাই মনে করায়—
জীবনটা খুব ক্ষণিকের,
আজকে যারা পাশে আছে
কাল হারাবে সময়ের ফের।
তাই জন্মদিন প্রশ্ন রাখে—
এটা কি শুধু বয়স বাড়া?
নাকি ধীরে ধীরে মানুষ
নিজের শেষের দিকে যাওয়া।
হয়তো জন্মদিন মানে
দুই অনুভব একসাথে,
একদিকে নতুন সকাল,
অন্যদিকে মৃত্যু পথে।




