তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে অবৈধ দাবি করে বিসিবিতে আইসিসির হস্তক্ষেপ চান বুলবুল

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনগতভাবে অকার্যকর দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর সদ্য সাবেক প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এনএসসি কর্তৃক গঠিত বর্তমান অ্যাড-হক কমিটি বাতিলের দাবি জানান। বুলবুল উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে ওই নির্বাচন পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বুলবুল অভিযোগ করেন, বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের যে দাবি তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্রিকেট বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তার মতে, কোনো স্বায়ত্তশাসিত ক্রীড়া ফেডারেশনের সমাপ্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার আইনগত এখতিয়ার এনএসসি-র নেই এবং এ ধরনের হস্তক্ষেপ আইসিসির মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থি। নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে অ্যাড-হক কমিটি গঠনকে তিনি ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিবৃতিতে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করবে, যা ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ ও বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

বুলবুল আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচিত বোর্ডের বৈধতা রক্ষায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত তিনিই বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।’

 

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”