দাওরায়ে হাদিসের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮৯.৯৯ শতাংশ

বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে অনুষ্ঠিত ১৪৪৭ হিজরি (২০২৬) সনের দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর গড় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটি, পরীক্ষা মনিটরিং সেল, পরীক্ষা উপকমিটি ও নিরীক্ষকবৃন্দের যৌথ সভায় এ ফল ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান যাত্রাবাড়ী।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ হাজার ৮৮১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ২৬৮ জন এবং ছাত্রী ৮ হাজার ৬১৩ জন। সারাদেশে ১০৪টি ছাত্র ও ১৫৫টি ছাত্রী মারকাজে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ২১ হাজার ৪৯১ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৩৯০ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ১৮৬ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ৩০৫ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এছাড়া মাকবুল (তৃতীয়) বিভাগে ছাত্র ২ হাজার ৩৪৭ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৫৭২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষা বাতিল (যবত) করা হয়েছে ২০ জনের।

পরীক্ষা প্রবিধি অনুযায়ী ছাত্র ও ছাত্রীদের মেধাক্রম পৃথকভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং প্রতি ৫০০ জনে একজনকে মেধা তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ছাত্রদের ক্ষেত্রে ৩১তম এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ১৭তম পর্যন্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত মেধা তালিকায় ৯৩২ নম্বর পেয়ে ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকার সূত্রাপুরের মাদ্রাসা বায়তুল উলূম ঢালকানগরের খালেদ হাছান। ৯২৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে চট্টগ্রামের পটিয়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ার মো. আব্বাস।

৯২৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার মুতাসিম বিল্লাহ। একই নম্বর পেয়েছে ঢাকার সূত্রাপুরের মাদ্রাসা বায়তুল উলূম ঢালকানগরের মুহা. আবু রায়হান।

অন্যদিকে ছাত্রীদের মধ্যে ৮৯৪ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকার রামপুরার ফাতেমাতুয যাহরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার আসমা। ৮৮৩ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারীর দারুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার মোছা. ফাতিমাতুয যাহরা। ৮৮১ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছে ঢাকার উত্তরা-১০ এলাকার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়ার তাহসিনা সিদ্দীকা মারিয়া।

ফলাফল প্রকাশ শেষে সংশ্লিষ্টরা উত্তীর্ণ ও অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্র-ছাত্রীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট তাদের সফলতা ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”