আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিএনপি জবাবদিহিমূলক ও যুগোপযোগী আইন করতে চায়। নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই আইনগুলোকে আরও বেশি স্বচ্ছ করতে চায়।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছিলাম। উপস্থাপনের পর উক্ত অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছে প্রেরণ করে। বিশেষ কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। এই প্রতিবেদনের আলোকে বিগত কয়েক দিন ধরে সংসদে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপিত হয়, যার ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজত করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেও উল্লেখ আছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে ৩ থেকে ৪টি অধ্যাদেশের ওপর অনেক প্রাণবন্ত আলোচনা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা বলছেন, আমরা শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন চাই না, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় চাই না কিংবা বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা চাই না, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, বিএনপি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই আইনগুলোকে আরও বেশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং যুগোপযোগী করতে চায়। জনগণের যেকোনো যৌক্তিক দাবি বিএনপির কাছে সবচেয়ে বেশি বিবেচনার দাবি রাখে।




