যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা সঠিকভাবে আদায় ও বণ্টন করা গেলে সমাজে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব—এমন মন্তব্য করেছেন রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত “দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, যাকাত শুধু দান-খয়রাত নয়, বরং এটি একটি কার্যকর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত আদায় ও বণ্টন করা গেলে সমাজে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি ইমাম-খতিব ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে যাকাত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিত্তবানদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে যাকাত ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সোনালী ব্যাংক পিএলসি রাঙ্গামাটি অঞ্চলের সাবেক এজিএম ওয়ালিউন নবী, আল হারামাইন হজ্জ কাফেলার প্রতিনিধি শাহীন আল মামুন, ডা. মুশফিকুর রহমান এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার পেয়ার আহম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন কাঠালতলী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. নুরুল কবির রিজভী। শেষে কালেক্টরেট জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবুল হাসেম দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এতে যাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাঙ্গামাটি বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শামসুল আরেফিন। আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা মো. আসহাদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, যাকাত কেবল দান নয়; এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাতের অর্থ দরিদ্র, অসহায়, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা সহায়তাপ্রার্থী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা গেলে সমাজের জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে মসজিদভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিত্তবানদের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




