বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার নতুন নির্দেশনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের দাবি, দেশের নগরকেন্দ্রিক বাস্তবতার সঙ্গে মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও কেনাকাটার সময় এক নয়। তাই নতুন নির্দেশনাটি বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নতুন নির্দেশনার আলোকে অনেক ব্যবসায়ীকে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে দোকানপাট বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এতে বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের ছোট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ সকালে ঘরের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে দিনের বড় একটি সময় মাঠ-ঘাট কিংবা বিভিন্ন কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকেন। দিনের কাজ শেষে গোধূলির পর বাড়ি ফেরেন তারা। এরপরই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য কেনাকাটা শুরু করেন। একইভাবে চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশও দিনভর কর্মস্থলে থাকার পর সন্ধ্যার দিকে বাজারে এসে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করেন।
ফলে সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ হয়ে গেলে ক্রেতাদের একটি বড় অংশ নিয়মিত কেনাকাটার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ক্ষুদ্র ব্যবসার দৈনিক বিক্রিতেও।
এর মধ্যে টানা বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত মাস থেকেই মফস্বল ও গ্রামীণ বাজারে ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। অনেক দোকানে ক্রেতাসমাগম ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময় সন্ধ্যার পরের কয়েক ঘণ্টা হারালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছেন না। তবে সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একই সময়সীমা নির্ধারণ না করে বাস্তবতার ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে রাতের সময়ে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, দোকানে বাতির সংখ্যা সীমিত করা কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোরতা আরোপের মাধ্যমে সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
তাদের আকুল আবেদন, অন্তত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি বা নির্দেশনা দেওয়া হোক। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ কর্মদিবস শেষে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ব্যবসার স্বাভাবিক সময়টুকু ফিরে পাবেন।
নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার আগে মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকার বাস্তবতা, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য অক্ষুণ্ন রেখে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও জনসাধারণের প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় করে নির্দেশনাটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাশ্রয় হোক বিদ্যুতের,
কিন্তু বাঁচুক ক্ষুদ্র ব্যবসার শেষ বিকেলের বেচাকেনাও।




