
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলমান আমদানি-রপ্তানি সংকট নিরসনে আজ বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ এক দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা। এদিন স্থলবন্দর পরিদর্শনে আসছেন ভারতের রাজশাহীতে নিযুক্ত সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার। একই সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে আন্দোলনরত সিএন্ডএফ এজেন্ট ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে দেশটির প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সীমান্ত বাণিজ্যের অচলাবস্থা কাটিয়ে কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার পানামা পোর্টের হলরুমে স্থানীয় সিএন্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভায় সীমান্ত বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি এবং সংকট উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের হিলি অংশে আন্দোলনরত সিএন্ডএফ এজেন্ট ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চলমান আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে ওই বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমারও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
গত কয়েকদিন ধরে ভারতের হিলি অংশে সিএন্ডএফ এজেন্ট ও রপ্তানিকারকদের আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের জট, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি হয়। ফলে বন্দর কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হলে শুধু ব্যবসায়ী নয়, পরিবহন খাত ও সাধারণ ভোক্তারাও এর প্রভাবের মুখে পড়েন।
তাদের মতে, ভারতের সহকারী হাই কমিশনারের এই সফর সীমান্ত বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা আশা করছেন।
এদিকে আজকের পৃথক দুই বৈঠক থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে এবং তা চলমান বাণিজ্য সংকট নিরসনে কতটা ভূমিকা রাখে, সেদিকেই নজর রয়েছে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের।





