অবরোধ না তুললে ওমান সাগর হবে আপনাদের কবরস্থান: ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রভাবশালী এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বন্দর অবরোধ অব্যাহত থাকলে “ওমান সাগরই হবে মার্কিন বাহিনীর কবরস্থান”।

তেহরানের এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য এবং সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্রুত ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।

তিনি বলেন, “আমরা মার্কিন সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দিচ্ছি— অবরোধ শেষ করুন, নইলে ওমান সাগর আপনাদের কবরস্থানে পরিণত হবে।” রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে “যুদ্ধের শামিল” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা তেহরানের অধিকার।

তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র যত দীর্ঘ সময় ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাবে, ততই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ক্ষতি বাড়বে।”

যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা বিশ্বাসযোগ্য। রেজায়ি বলেন, “এখন নিজেদের প্রমাণ করার দায়িত্ব আমেরিকার। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে, একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত আছে।”

গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে অবরোধ শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান তার শর্ত অনুযায়ী শান্তিচুক্তিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।

তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত বেলায়েত’কে র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রেফতার

বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ মে ২০২৬ইং তারিখ রাতে বরগুনা জেলার তালতলী থানাধীন নিশানবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত মোঃ বেলায়েত (৪০), পিতা-মোঃ নিজাম, সাং-চর লাঠিমারা, ৯নং ইউপি, থানা- পাথরঘাটা, জেলা- বরগুনা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এজাহারের বিবরণে জানা যায়, বাদী ও অভিযুক্তগন পাশাপাশি বসবাস করে। তাদের মধ্যে গাছ কাটা নিয়ে অনেকদিন যাবত বিবাদ চলে আসছিল। ঘটনার দিন গত ১০ মে ২০২৬ইং তারিখ পুনরায় তাদের মধ্যে গাছকাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি হয় এবং অভিযুক্তগণ একত্রিত হয়ে বাদীর স্বামীকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। উপস্থিত সাক্ষীর ডাক চিৎকারে ঘটনাস্থলে অন্যান্য সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তগণ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ মে ২০২৬ইং তারিখ তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  উল্লেখ্য যে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮, ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধী অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তার অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্ত’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বরগুনা জেলার আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।