নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়াকে এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির কেজিপ্রতি দাম আগের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন ১০০ টাকা, তড়ই ৯০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং কচুরমুখী ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে শসার দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকা এবং শিকড়ের দাম ৮০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকায় নেমেছে।
এদিকে দুই সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। বর্তমানে মানভেদে তা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় পৌঁছেছে। বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে।
সাহেবগঞ্জ বাজারের সবজি বিক্রেতা রেজাউল করিম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। তবে দু-একটি সবজির দাম বাড়েনি।
সাহেবগঞ্জ বাজারে সবজি কিনতে আসা ফায়সাল বলেন, সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন সবজি কিনেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ডিম কিনতে আসা এক ক্রেতার অভিযোগ, গত এক মাসে প্রতি ডজন ডিমের দাম প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে পরিবারের শিশুদের নিয়মিত ডিম খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সবজির উচ্চমূল্যও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
কাশিয়াবাড়ী হাটের সবজি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অনেক সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারের দামে।
এদিকে ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। আর এক মাস আগে একই ডিমের দাম ছিল প্রতি ডজন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। অন্যদিকে হাঁসের ডিম বর্তমানে প্রতি ডজন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ১৩৫ টাকা।
তবে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক সবজির ক্ষেত পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীর কারসাজির কারণেও সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে।
বাজার তদারকিতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, বাজারে কার্যকর তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।




