
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার প্রধান অফিস সহকারী খালিদ হোসেনকে ঘিরে ৬০ লাখ টাকা অবৈধ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের ভিত্তেতে প্রথম অনুসন্ধানী পর্ব প্রকাশ করার পরে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য এসে পৌঁছেছে অনুসন্ধানী টিমের হাতে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাংকের সিসি ফুটেজ ও একই শাখার তখনকার এএলও(২) রেজওয়ানা,সার্ভেয়ার নাজমুল,পেশকার শামীম,অফিস সহকারি মিলন এর কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
জানা যায় কলাপাড়ার লালুয়া মৌজার ১৮০ বন্দোবস্ত খতিয়ানের অধীনে ৬,১৮,১৯ নম্বর এলএ কেসটির বিপরীতে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি জালিয়াতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই ভুয়া বরাদ্দের বিরুদ্ধে এলএ আপত্তি শাখায় লিখিত আপত্তি দায়ের করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, যেকোনো অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর আপত্তি বা বিরোধ থাকলে তা শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় বা চেক প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ। এই কেসের ক্ষেত্রে অভিযোগের ওপর চলতি মাসের ৩১ তারিখ আনুষ্ঠানিক আপত্তি শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।কিন্তু মোটা অঙ্কের পার্সেন্টেজ ও ঘুষের বিনিময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলএ শাখার প্রধান অফিস সহকারী খালিদ শুনানি বা কোনো আইনি বিতর্ক নিষ্পত্তি ছাড়াই ফাইলটি পাস করিয়ে দেন। আইনি প্রক্রিয়ার কোনো কিছুর তোয়াক্কা বা তর্ক না করেই শুনানি অনুষ্ঠানের আগেই তড়িঘড়ি করে ১ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকার চেক ইস্যু ও প্রদান করা হয়।
এই জালিয়াতির বিষয়ে মূল ভুক্তভোগী নাজির আহমেদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিবাদী মোশারেফ হোসেন খালিদের পরামর্শে এখানে মূল কারসাজি করেছেন। বিবাদী মোশারেফ খালিদের সাথে সরাসরি যোগসাজশ করে এই জালিয়াতি ঘটিয়েছেন। আমরা নিয়ম মেনে এলএ আপত্তি শাখায় লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণাদি জমা দিয়েছিলাম এবং জেলা প্রশাসক থেকে আগামী ৩১ আগস্ট শুনানির দিনও ঠিক করা হয়। কিন্তু খালিদ এলএ আপত্তি শাখার প্রধান অফিস সরকারি খালিদ সিন্ডিকেট আমাদের কোনো কথাই শোনেননি।
মোশারেফ সরদারের কাছ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ অতঃপর মামলা প্রসঙ্গে :
অনুসন্ধানে আরও জানা যায় মোশারফ খালিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়াতে আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই নিজের প্রভাব খাটিয়ে মোশারেফের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে , খোদ ডিসি অফিসের শুনানির তারিখ বহাল থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার বিতর্ক বা আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই তারা গোপনে কোটি টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। এটি একটি প্রকাশ্য ডাকাতি।”সাধারণ মানুষের বৈধ ফাইল সামান্য ত্রুটির অজুহাতে বা ভুয়া আপত্তি তুলে দিনের পর দিন আটকে রাখতেন ও তার সিন্ডিকেট। অথচ সরকারি খাস জমি গ্রাস করার এই জালিয়াতির ফাইলে স্বয়ং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির তারিখ থাকার পরও, তা লঙ্ঘন করে আগেই চেক দিয়ে দেওয়া হলো।
অনুসন্ধানে জানা যায় মোশারেফ সরদার তার এক কোটি ৩১ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৩৭ টাকা পাইয়ে দেয়ার নামে খালিদ তার কাছ থেকে তিনটি চেকের মাধ্যমে ৬০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন তার এই জালিয়াতির ঘটনায় বিবাদী মোশারেফ সরদার আদালতে পর পর দুই দফা ফৌজদারি মামলা হয় যার প্রথমটি সিআর মামলা নং ১০১৪/২০২৬ এবং দ্বিতীয়টি সিআর মামলা নং ১০৯৯/২০২৬ মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারা উল্লেখ রয়েছে।দুটি মামলার নথি পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে অভিযোগের ধারাবাহিকতা, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের মধ্যে সম্পর্ক আরও পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা হলে বা গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। অথচ খালিদ হোসাইনের ক্ষেত্রে দুই দুইবার ফৌজদারি মামলা হওয়ার পরও জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ এলএ শাখায় বহাল রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে দুর্নীতির এই বিশাল অর্থের ভাগ উপরমহল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিত্তিতে অতি দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উচ্চপর্যায়ের জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ভাবমূর্তি এই ক্ষুট্টিধারী দুর্নীতিবাজদের কারণে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।
আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে পরিচালিত প্রাথমিক অনুসন্ধানেও অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান অফিস সহকারী খালিদ হোসেনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ক্ষতিপূরণের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, তিনটি চেকের মাধ্যমে মোট ৬০ লাখ টাকা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নথি, চেক,ব্যাংকের সিসি ফুটেজ এবং ভূমি অধিগ্রহণের কাগজপত্রই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে অভিযোগে উল্লেখ করা অর্থের পরিমাণ, চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং সংশ্লিষ্ট এলএ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অনুসন্ধানে গুরুত্ব পেয়েছে।
এ বিষয়ে এলএ শাখার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন যেমন -তৎকালীন ALO(2), সাবেক সার্ভেয়ার নাজমুল,পেশকার শামীম,সাবেক আপত্তি শাখার অফিস সহকারী মিলন সহ কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী সরকারি খাস জমির বন্দোবস্ত প্রধান অফিস সহকারী নিজে করে থাকে যার ফলে মোশারেফ সরদারের সাথে খালিদের আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এলএ কেস নাম্বার ৬, ১৮, ১৯ এর পুরো তদারকি প্রধান অফিস সহকারি খালিদ হোসেন নিজেই করেছেন এই বিষয়ে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই যদি থাকতো তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হতো।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক আর একজন কর্মচারী বলেন উপরমহলে তার হাত রয়েছে তাই তার এই দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু করা যাবে না।কিন্তু প্রশ্ন তার খুঁটির জোর কোথায়?
এই বিষয়ে খালিদ হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ সকল অভিযোগ মিথ্যে বলে এর দায় এড়িয়ে যায় এবং বলেন আপনারা যা ইচ্ছা লিখতে পারেন এই ব্যাপারে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রী, ভূমি সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর আগামী রবিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে ।




