ইয়াবা থেকে ১০ লাখ—হরিপুরে পুলিশের অভিযানে ফাঁস হলো স্বামী-স্ত্রীর মাদক কারবারের ‘চক্র’

একটি মোটরসাইকেল, ১৪৫ পিস ইয়াবা আর একটি শপিং ব্যাগ—হরিপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযানে গ্রেপ্তার হন স্বামী-স্ত্রী। তাদের কাছ থেকে ইয়াবার পাশাপাশি মাদক বিক্রির ১০ লাখ টাকা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে একটি মোটরসাইকেল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হরিপুর উপজেলার ৬ নম্বর ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহেন্দ্রগাঁও (জিগা) গ্রামের নয়াবাঁশ এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—রানীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর (মিশনপাড়া) গ্রামের মো. নাজির হোসেন (৫৫) ও তার স্ত্রী মোছা. নাজমা বেগম (৪৮)।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়াবাঁশ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মোটরসাইকেলসহ নাজির হোসেনকে দেখতে পায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।
তার কাছ থেকে তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ১৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগে ১৬০ সিসির একটি হোন্ডা এক্সব্লেড মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনাস্থলে স্ত্রী
নাজির হোসেনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় পুলিশ। কিছু সময় পর সেখানে উপস্থিত হন তার স্ত্রী নাজমা বেগম।
পুলিশের দাবি, নাজমা বেগমের সঙ্গে থাকা একটি শপিং ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় নগদ ১০ লাখ টাকা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ মাদক বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত।
শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়, নজর আরও কয়েকজনের দিকে
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজির হোসেন ও নাজমা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক কারবারে নাজমা বেগম অর্থের জোগান ও সহযোগিতার ভূমিকা পালন করতেন বলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে এখানেই তদন্ত শেষ হচ্ছে না। মাদক সরবরাহকারী, সহযোগী ও ক্রেতাসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মাদকের উৎস এবং এই কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান চালানো হচ্ছে।
মামলা, অব্যাহত অভিযান
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অভিযান চলবে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

৫২নং ওয়ার্ড, মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন