
পুলিশের অভিযান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ফুটপাত উচ্ছেদ—কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবার সেই ফুটপাতেই ফিরে আসছে দখলদাররা। ফের বসছে দোকানপাট, বাড়ছে পথচারীদের দুর্ভোগ। এরপর আবার অভিযান, আবার উচ্ছেদ, আবারও উত্তেজনা। এভাবেই যেন চলছে ফুটপাত দখলমুক্ত করার নামে এক অন্তহীন ‘উচ্ছেদ-উচ্ছেদ’ খেলা।
প্রশ্ন উঠেছে—উচ্ছেদ যদি সত্যিই স্থায়ী সমাধানের জন্য হয়, তাহলে উচ্ছেদের পর দখলদাররা আবার একই জায়গায় ফিরে আসে কীভাবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত উচ্ছেদের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দখল শুরু হয়। একপর্যায়ে ফুটপাতজুড়ে গড়ে ওঠে অস্থায়ী দোকানপাট ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। এতে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হয়। তৈরি হয় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া কিংবা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সমঝোতার কারণে উচ্ছেদের পরও অনেকে আবার ফুটপাত দখলের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শুধু ফুটপাত দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে প্রশাসনিক দুর্বলতা, স্থানীয় প্রভাব এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রশ্নও।
তাই জনমনে এখন বড় প্রশ্ন—অভিযানের খবর আগে থেকেই কারা পায়? উচ্ছেদের পর দখলদারদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেয় কারা? নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেও কেন স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না?
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হলে শুধু একদিনের অভিযান কিংবা কয়েক ঘণ্টার উচ্ছেদ যথেষ্ট নয়। উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, স্থায়ী ব্যবস্থাপনা এবং দখল পুনঃস্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।
নইলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, উচ্ছেদ অভিযান আর কয়েকদিন পর আবার দখল—এই চক্র চলতেই থাকবে।
জনগণের প্রশ্ন একটাই—ফুটপাত দখলমুক্ত করাই যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে বারবার উচ্ছেদের পরও দখলদাররা ফিরে আসে কীভাবে? আর এই ফিরে আসার নেপথ্যে কারা?





