
নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে নির্জন সড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল বগুড়ায় বিক্রি করে পিকআপযোগে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন গাড়ির চালক সোহেল রানা (২৫) ও দোকানের ম্যানেজার মজনু মিয়া (৩৫)।
ফেরার পথে পিকআপটি বিকল হয়ে পড়লে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে। এ সময় চালক সোহেলকে হালকা মারধর এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠান। একই সঙ্গে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি,সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ দল।
প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪) গ্রেফতার হন। তার বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাদেবপুরের ঈশ্বরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিনকে (২৫) তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের চালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল।
গ্রেফতারকৃত তিনজন গত এক সপ্তাহ ধরে এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন। এতে চালক সোহেল রানা ও মুন্না পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন এবং রবিন ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন বলে পুলিশের দাবি।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতি কঠোরভাবে দমন করবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের এমন দ্রুত অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অধিকাংশ টাকা উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।




